কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস ডিটেকশন যেভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে পারে


তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি ঘটলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মতো তেমন নির্ভরযোগ্য কোনো প্রযুক্তির  আবির্ভাব ইতিপূর্বে পরিলক্ষিত হয়নি।
এতে মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে, বেশ উদ্বেগের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হতো।
কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির আগমনের ফলে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ অনেকেটাই কমে গেছে।
ভিসা ও পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রায়ই দেখা যায়।
কিন্তু এই ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির সাহায্যে খুব সহজেই ভিসা ও পাসপোর্ট জালিয়াতি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে।
অনেক পাসপোর্ট অফিসেই ফেস রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করা হয়েছে।
 আর্থিক ও ব্যাংকিং ক্ষেত্রেও ফেস ডিটেকশন ব্যাপক সুবিধা বয়ে নিয়ে আসতে পারে।
 এটিএম ও ব্যাংকিং সেবায় ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংক্রান্ত নিরাপত্তা খুব সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই প্রযুক্তির ফলে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিও অনেকটাই কমে যাবে।
অপরাধীদের শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে ফেস ডিটেকশন অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি।
যেহেতু ফেস ডিটেকশনের মাধ্যমে খুব সহজেই অপরাধীদেরকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়, ফলে অপরাধীরা অপরাধ কর্ম থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে বাধ্য হবে।
এছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানে ফেস ডিটেকশন ব্যবহারের মাধ্যমে, ব্যবসার নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করানো সম্ভব।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত ও আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ফেস ডিটেকশনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধও বেড়ে চলছে, এতে তথ্য ও বিভিন্ন বিষয়ের নিরাপত্তা রক্ষা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের হাতিয়ার হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই সাইবার অপরাধ ও আক্রমণসমূহ কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনগুলোও খুব সহজেই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে করা সম্ভব, যা মানুষের দ্বারা পরিচালনা করলে, মানবদেহের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিতো।
আগুন নিভানো, সমুদ্রের তলদেশ থেকে জাহাজ উদ্ধার, গবেষণার জন্য গ্রহে প্রাণী পাঠানো ইত্যাদি বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সহজেই করা যায়, ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
আবার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে, পণ্য চুরি হওয়ার হাত থেকে প্রতিষ্ঠানকে সহজেই রক্ষা করা যেতে পারে।
এছাড়াও মোবাইল-ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইসে ফেস ডিটেকশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অনেক বেশি শক্তিশালী ও জোরদার করা যাবে, এতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্য কোনো প্রযুক্তির দ্বারা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
তাই বলা যেতে পারে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে ফেস ডিটেকশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এক অনন্য প্রযুক্তি এবং মানব জাতির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.