কাতার যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হলো


প্রায় ১২ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট একটি স্বাধীন দেশ কাতার। যা সম্পূর্ণরূপে মরুভূমি দ্বারা আবৃত এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত।
 বর্তমান সময়ে কাতারকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অথচ এক শতাব্দী কাল আগেও এই অঞ্চলটি ছিলো দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে একটি।
মরুভূমি হওয়ার কারণে এই স্থানের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে প্রায় ৫০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।
এছাড়াও এটি ছিল যুক্তরাজ্যের একটি উপনিবেশ।
বিভিন্ন বাঁধা, বিপত্তি ও সমস্যা থাকার পরেও কাতার ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে  উন্নতি, সমৃদ্ধি ও সামনের দিকে।
প্রায় ২.৪ মিলিয়ন জনগণের এই ক্ষুদ্র দেশটির আয়ের প্রাথমিক উৎস ছিলো মাছ ধরার শিল্প এবং মুক্তা নিষ্কাশন।
 এতে দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তন তেমনভাবে  ঘটতেছিলো না।
তারপর ১৯৩৮ সালে কাতারে প্রথম তেল ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
 এরপর থেকে এই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়, যদিও পরিবর্তন খুব সীমিত পরিসরেই বিদ্যমান ছিলো।
 তেলের খনি দেশটির উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ছিল না।
 তারপর ১৯৭০ সালে এসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয় কাতারে।
তখন কাতারে আবিষ্কৃত হয় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র।
কিন্তু ঐসময় এই গ্যাস সরবরাহের একমাত্র পন্থা ছিলো পাইপলাইন ।
এতে গ্যাসের সরবরাহ করা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিলো। কারণ বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন স্থাপন করা অসম্ভব ছিল এবং তা ছিল খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার।
১৯৭১ সালে এসে কাতার স্বাধীনতা লাভ করে করে।
তখন কাতারের আমির ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, কাতার ও তার জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব, শুধুমাত্র এই প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।
এবার তিনি লিকিউফ্যাকশন বিজ্ঞানের গবেষনা ও উন্নয়নে ব্যাপক আর্থিক বিনিয়োগ করেন।
 লিকিউফ্যাকশন হলো, প্রাকৃতিক গ্যাসকে তরলে রূপান্তরিত করার একটা প্রক্রিয়া।
এতে সহজেই জাহাজ ও ট্রাকে করে গ্যাস ভর্তি পাত্র বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হয়।
 এতে এই প্রাকৃতিক গ্যাস বিদেশেও রপ্তানি করা সহজ হয়ে যায়।
বিদেশে রপ্তানি করে কাতার প্রচুর পেট্রোডলার উপার্জন করতে থাকে। তেল ও গ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত ডলারকেই বলা হয়ে থাকে পেট্রোডলার।
 আর এভাবেই কাতার আস্তে আস্তে উঠে আসে ধনী দেশের তালিকার শীর্ষে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.