ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের প্রভাবশালী এক ধনকুবের গল্প


ওয়ারেন বাফেট ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা প্রদেশের ওমাহাতে জন্মগ্রহণ করেন।
হাওয়ার্ড বাফেট ও লিলা বাফেট দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয়। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই মানুষটির পুরো নাম ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট।
ওয়ারেন বাফেটের শিক্ষা জীবন শুরু হয় রোজ হিল এলিমেন্টারি স্কুলে। তারপর ১৯৪২ সালে তার বাবা কংগ্রেসে নির্বাচিত হলে, তারা সপরিবারে ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে আসে।
এরপর তিনি ভর্তি হন এলিস জুনিয়র হাই স্কুলে এবং পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে তিনি উইড্রো উইলসন হাই স্কুল থেকে পাস করে বের হন।
বাল্যকাল থেকেই তার ব্যবসা করার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে স্পিনবল মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
এছাড়াও তিনি চুইংগাম ও কোকাকোলার বোতল বিক্রি, বাসায় বাসায় পত্রিকা বিক্রি করা ইত্যাদি কাজগুলোর মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়তই অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতেন।
কলেজ থেকে পাস করে বের হওয়ার আগেই তিনি জমা করেছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ডলার।
ব্যবসার প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক থাকলেও পড়ালেখা ঠিকই চালিয়ে গিয়েছেন।
তিনি ১৯৪৭ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন।
তারপর ইউনিভার্সিটি অব নিব্রস্কা লিংকন থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
এরপর ভর্তি হন কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলে। সেখান থেকে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৫১ সালে।
তিনি তার প্রাথমিক জীবনে ইনভেস্টমেন্ট সেলসম্যান ও সিকিউরিটি এনালিস্ট হিসেবে কাজ করেন।
 তারপর তিনি বাফেট পার্টনারশিপ লিমিটেডে একজন অংশীদার হিসেবে কাজ করেন ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত।
ইতিমধ্যে ১৯৬২ সালে তিনি মিলিওনেয়ার ব্যক্তিতে পরিণত হন।
১৯৬২ সাল থেকে তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কোম্পানির স্টক কেনা শুরু করেন।
আস্তে আস্তে তিনি এই কোম্পানির সর্বোচ্চ শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হন।
তারপর তিনি এই কোম্পানিটি নিজের মালিকানাভুক্ত করেন এবং ১৯৭০ সালে তিনি এই কোম্পানির সিইও হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
  পরবর্তী সময়ে এই কোম্পানিটিকে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে রুপান্তরিত করেন।
ধীরে ধীরে তার সম্পদ বাড়তে বাড়তে  ২০০৮ সালে এসে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে ১৯৫২ সালে তিনি সুসান এলিস বাফেটকে বিয়ে করেন।
 তাদের তিন সন্তান রয়েছে।
২০০৪ সালে সুসানে মারা গেলে বাফেট ২০০৬ সালে অ্যাস্ট্রিড মিনক্সকে বিয়ে করেন।
 বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনীদের একজন হলেও তিনি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করেন এবং তিনি ব্যক্তি জীবনে খুবই জনদরদি ও মানবহিতৈষী।
তিনি গান শুনতে ও বই পড়তে খুবই পছন্দ করেন।
"সততা খুবই দামী একটি উপহার তা কখনোই সস্তা লোকদের থেকে আশা করবেন না।"
 "আপনার পা পানিতে ডুবিয়ে কখনোই নদীর গভীরতা মাপবেন না।"
 "কখনোই আয়ের একমাত্র উৎসের উপর নির্ভর করবেন না, বিনিয়োগের মাধ্যমে আরেকটি উৎস তৈরি করুন।"
এমনই মূল্যবান বিভিন্ন কথার প্রবক্তা ওয়ারেন্ট বাফেটের বর্তমান বয়স ৮৮ বছর।
এ বয়সেও তিনি কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেননি।
তার জীবনী থেকে পাওয়া তথ্য নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পাথেয় হতে পারে।            

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.